top of page

কচি - সজনে - ডাঁটা - আর - শিঙি - মাছ

ক-দিন বেশ হই-হুল্লোড় করেই কাটলো ! বাড়ি লোকজনে ভ .... রা ছিল | কয়েকজন আত্মীয় স্বজন এসেছিলেন | খুব ভালো ভালো মুখরোচক রান্না বান্নাও খাওয়া হলো | আজ বাড়িতে - আমরা বাড়ির লোকজন | আত্মীয় স্বজন যে যার মতো বাড়ি ফিরে গিয়েছে |


আজ আমার বাড়ির সবারই ইচ্ছা একটু হালকা রান্না খাবে | আমি বললাম ,ঠিক আছে ,যেমন তোমরা চাইবে ,তেমনি রেঁধে দেব |


যথা সময়ে আমার হাতে এলো মাছের ব্যাগ আর সবজির ব্যাগ | মাছের বাগে শিঙি মাছ | কেটেকুটে পরিষ্কার করা | সবজির বাগে দেখি একেবারে কচি কচি সজনের ডাঁটা,নতুন আলু , বেগুন ,টমেটো ,নিমপাতা .............| সজনের ডাঁটা দেখে তো মন আনন্দে ভরে গেলো | হাতে নিতেই কি সুন্দর কচি কচি আর সবুজ সবুজ গন্ধে ভরা | ভাবলাম বড়ি ,সজনের ডাঁটা আর নতুন আলু দিয়ে শিঙি মাছ রান্না করলে বেশ ভালোই হবে | সবচাইতে বড়ো কথা সবার পছন্দ মতো হালকা রান্না হবে ,আর অবশ্যই হবে খুব টেস্টি টেস্টি |


বড়ি তো রান্নাঘরে মজুতই আছে ,সুতরাং সবই যখন আছে ....তখন মনের মতো রান্নাও হবে |

উপকরণ :-

  • শিঙি মাছ - ৬০০ গ্রাম (টুকরো টুকরো করে কেটে পরিষ্কার করা )

  • আলু - ৩-৪ টি মাঝারি সাইজের ( খোসা ছাড়িয়ে লম্বা লম্বি প্রতিটি ৬ টুকরো করে কাটা )

  • সজনের ডাঁটা -200 গ্রাম ( লম্বা লম্বা করে কাটা )

  • বড়ি -১৫-১৬ পিস

  • পাঁচফোড় ন -১ - ১.৫ চামচ

  • গোটা শুকনোলঙ্কা - ২টি ফাটানো

  • আদা - থেঁতো করা ১ চামচ

  • হলুদ - ২-৩ চামচ

  • জিরেগুঁড়ো ৩-৫ চামচ

  • লাল লঙ্কা গুঁড়ো - ১- ১.৫ চামচ

  • কাঁচালঙ্কা - ৩-৪ টি অর্ধেক করে চেরা

  • নুন - প্রয়োজনমতো

  • চিনি - প্রয়োজনমতো

  • সর্ষের তেল - প্রয়োজনমতো



মাছগুলো একটা পাত্রে নিয়ে অনেকটা নুন মাখিয়ে বেশ কিছুক্ষন রেখে দিলাম | তারপর বার বার, মানে বেশ কয়েকবার জলে ধুয়ে নুন হলুদ আর ১ চামচ মতো সর্ষের তেল মাখিয়ে রাখলাম | শিঙি মাছ গরম তেলে খুব ফাটে ,আঁচ বাড়িয়ে কমিয়ে ঢাকা দিয়ে দিয়ে সাবধানে ভাজতে হয় | কিন্তু মাছে

একটু সর্ষের তেল বা একটু ভিনিগার কিছুক্ষন মাখিয়ে রাখলে , মাছ একটু কম ফাটে |


যাহোক, গ্যাসে কড়াই চাপিয়ে মাছগুলো ভাজার মতো তেল দিলাম | তেল গরম হলেই ,শিঙি মাছগুলো আঁচ বাড়িয়ে কমিয়ে ভালো করে ভেজে নিলাম | ওই তেলেই আঁচ কমিয়ে বড়ি গুলো কড়া করে ভেজে তুলে রাখলাম | কড়াইয়ের তেলের মধ্যে প্রয়োজনমতো আর একটু তেল দিয়ে দিলাম ,২টি ফাটানো গোটা শুকনোলঙ্কা ,পাঁচফোড়ন আর জলে ধোয়া আলুগুলো |আঁচ বাড়িয়ে কমিয়ে আলু ভাজতে লাগলাম |


আলুগুলো হালকা রাঙা হলেই দিলাম থেঁতো করা একটু আদা ,নুন ,চিনি আর হলুদ | আঁচ বাড়িয়ে কমিয়ে নাড়তে নাড়তে দিলাম জলে ধোয়া কাটা সজনের ডাঁটা গুলো | বেশ কয়েকবার নেড়েচেড়ে নিয়ে আঁচ কমিয়ে দিলাম জিরেগুঁড়ো আর সামান্য লঙ্কাগুঁড়ো | আঁচ বাড়িয়ে কমিয়ে সমস্ত উপকরণ ভালো করে নাড়তে লাগলাম | মশলা ভাজার সুন্দর গন্ধ বেরহতেই ঝোলের পরিমান ভেবে জল দিলাম| ঝোল ফুটে উঠতেই আঁচ কমিয়ে একটা ঢাকা দিয়ে রান্না কিছুক্ষন হতে দিলাম |


ঢাকা খুলে আলুগুলো নরম হয়ে গেছে মনে হতেই ,আঁচ বাড়িয়ে ঝোলের মধ্যে দিলাম ভাজা মাছগুলো, ভাজা বড়িগুলো আর চেরা কাঁচালংকাগুলো | বেশ কিছুক্ষন ঝোল টগবগ করে ফুটতে লাগলো | বাহঃ রে ! ঝোলের কি সুন্দর গন্ধ | ঝোলের পরিমান ঠিক করে নিয়ে ,ঝোলের স্বাদও চেখে দেখে নিলাম | রান্না ঢাকা দিয়ে গ্যাস বন্ধ করলাম |


কয়েকদিন মশলাদার আর রসালো খাবার খাওয়ার পর ,আজকের সজনের ডাঁটা দেওয়া শিঙি মাছের ঝোল যেন অমৃত মনে হলে | দুপুরে খাবার টেবিলে গরম গরম মাছের ঝোল আর গরম গরম ভাত, সবাই খুউব তৃপ্তি করে খেলাম | আঃ হা হা ! মাছের ঝোলের অপূর্ব স্বাদে মন ভরে গেলো আনন্দে আর খুশিতে | আপনারও আনন্দে থাকুন আর থাকুন অনেক অনেক খুশিতে |


7 views0 comments

Commentaires


bottom of page