top of page

গুলে - মাছের - পেঁয়াজ - চচ্চড়ি


''জানার কোনোই শেষ নেই ''.....তাই ....''জানার চেষ্টা করা চাই -চাই'। এই বিশাল পৃথিবীতে জীবনের অল্প সময়ে আমরা জানি হয়তো বড়োই অল্প। যেমন আমাদের জীবনের সবচাইতে বড়ো ব্যাপার ক্ষিধে মেটানো। তার জন্যই রোজগার ,তার জন্যই কত রকম চেষ্টা। প্রকৃতির বিশাল খাদ্য ভান্ডারের কত টুকুই বা আমরা জানি ! প্রকৃতির অফুরন্ত খাদ্য ভান্ডার ,প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষের জন্য ,শুধু খুঁজে নিতে হবে ,চিনে নিতে হবে...নতুন নতুন উপকরণকে ...অল্প হলেও জানার চেষ্টা তো করতেই হবে।


সংসার ঠিক রাখার এক কঠিন দায়িত্বই রয়েছে কিন্তু প্রত্যেক সংসারের গৃহিণীদের উপর। সংসার সুখের করতে,পরিবারের সবাইকে সুস্থ রাখার চেষ্টা তাদের উপরেই রয়েছে সবচাইতে বেশি। খাদ্য হিসাবে কেন সবজি,কেন মাছ ,কেন ফল ......ইত্যাদি গ্রহণ করা উচিত ,তা কিন্তু তারাই সব চাইতে ভালো জানেন; আর সমানে জানার চেষ্টাও চালিয়েই যাচ্ছেন.........মানে ? আসল কথায় জানার কোনোই শেষ নেই নেই ......


আজ আমি রান্না করবো গুলে - মাছ। অনেকেই অবাক হচ্ছেন তাই না ? আর যারা জানেন ,তারা তো জানেনই কত উপকারী এই গুলে - মাছ। আঁশ ছাড়া এই মাছটির জীবনীশক্তি বা কার্যশক্তি সবই অনেকটা শিঙি ,মাগুর মাছের মতো। এই মাছের সবচাইতে বড়োগুন ,এই মাছ স্বাদে অসাধারণ ,খুব মিষ্টি মাছ ,একবার খেলেই ভালো লেগে যাবে ....মনে হবে বার বার খাবো। গ্রামে -গঞ্জে মানুষজন বলতে গেলে সবাই এই ধরণের খুব উপকারী মাছগুলোর সঙ্গে ভালোমতোই পরিচিত। তবে শহরে এই মাছ কিন্তু সব জায়গায় সব সময়ে পাওয়াই যায় না ,যখন বাজারে আসে ,যারা চেনে তারা যেন লুটেপুটে নিয়ে চলে যায়।


রান্না করবো গুলে মাছের পেঁয়াজ চচ্চড়ি। গরম গরম ভাতে মেখে মেখে খেতে ---দারুন ! দারুন !!সুন্দর স্বাদে মুখ আর মন দুইই ভরে যায়। ছোট বড়ো সবারই এই মাছ খাওয়াই উচিত ...আর মনে হয় কাঁটা কম এই মিষ্টি স্বাদের মাছ সবারই ভালো লেগেই যাবে !


উপকরণ :-


  • গুলে - মাছ - ৪০০ গ্রাম ( কেটে পরিষ্কার করা )

  • পেঁয়াজ - ৮-১০টি ( ছোট ছোট সাইজের ,মিহি করে কুচানো )

  • কাঁচালঙ্কা - ৮-১০টি ( লম্বা লম্বি অর্ধেক করে চেরা )

  • হলুদ - ১/২ - ১ চামচ ( কম হলেই ভালো )

  • পাঁচফোড়ন - ১/২ - ১ চামচ

  • নুন - প্রয়োজনমতো

  • চিনি - কয়েকদানা ( স্বাদের জন্য )

  • সর্ষের তেল - প্রয়োজনমতো


পদ্ধতি :-


গুলে - মাছ গুলোকে নুন মাখিয়ে কিছুক্ষন রেখে ,তারপর নাড়াচাড়া করে নিয়ে জলে বার বার ধুয়ে নিয়ে নুন হলুদ মাখিয়ে রাখলাম। গ্যাসে কড়াই চাপিয়ে প্রয়োজনমতো তেল দিলাম। তেল গরম হলেই আঁচ কমিয়ে কিছুটা গুলে - মাছ কড়াইতে দিয়ে দিলাম। আঁচ বাড়িয়ে কমিয়ে মাছ কড়া করে ভেজে তুলে রাখলাম। সমস্ত গুলে - মাছ ভেজে নিলাম।


এবার কড়াইতে ওই তেলের মধ্যেই ,প্রয়োজন মতো আর একটু তেল দিয়ে দিলাম পাঁচফোড়ন ,কুচানো পেঁয়াজ আর কিছু চেরা কাঁচালঙ্কা। আঁচ বাড়িয়ে কমিয়ে পেঁয়াজ ভাজতে লাগলাম। পেঁয়াজে অল্প অল্প বাদামি রং দেখা দিলেই ,দিলাম নুন ,কয়েকদানা চিনি আর অল্প হলুদ। আবার আঁচ বাড়িয়ে কমিয়ে কয়েক বার নেড়ে নিলাম। হলুদের গন্ধ চলে গেছে মনে হতেই ,আঁচ কমিয়ে পেঁয়াজের মিশ্রণ মজতে দিলাম।


পেঁয়াজ মজে গেছে মনে হতেই ভাজা গুলে - মাছ গুলো কড়াইতে দিয়ে আঁচ বাড়িয়ে কমিয়ে পেঁয়াজ আর মাছ মিশিয়ে দিতে লাগলাম। ঠিক মতো মিশে গেলেই ,আঁচ

কমিয়ে হাত দিয়ে দিয়ে ছিটিয়ে ছিটিয়ে কিছু পরিমান জল কড়াইতে দিয়ে দিলাম।কম আঁচে রান্না কিছুক্ষন হতে থাকলো। খানিক্ষণের মধ্যেই পেঁয়াজ আর মাছ ভাজার সুন্দর গন্ধ বার হতেই খেয়াল করলাম,জল শুকিয়ে মিশ্রণ থেকে পুচ পুচ করে তেল বেরিয়ে আসছে।


রান্নার স্বাদ দেখে নিয়ে ,বাকি অর্ধেক করে কাটা কাঁচালংকাগুলো কড়াইতে দিয়ে দিলাম। আঁচ বাড়িয়ে হালকা করে কয়েকবার নেড়ে নিয়ে গ্যাস বন্ধ করলাম।


এদিকে খাবার টেবিল মোটামুটি ভর্তি। সবার খাওয়া শুরু হলো। শেষপাতে দিলাম অল্প করে গরম ভাত আর গুলে - মাছের পেঁয়াজ চচ্চড়ি।... কত দিন .......বাদে আজ রান্নাটা হলো। ভীষণ ভীষণ ভালো লাগছে... সব্বাই একসঙ্গেই বলে উঠলো। আর একটু... ..আর একটু দাও তো! খুবই সুন্দর হয়েছে !বাঃ ! বাঃ ! খুব ভালো.............।


সবাই খুব ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন ,আনন্দে থাকুন। মজা করে সবাই মিলে করুন খাওয়া ...আর ...দাওয়া।


407 views0 comments

Comments


bottom of page