খয়রামাছ - ভাপা (Khoyera Mach Bhapa)
- Kaveri Nandi

- 22 hours ago
- 3 min read

আজ আমার রান্নাঘরে খয়রা সুন্দরী | দারুন একটা মাছ !! ভাজা খেতেও ভালো লাগে , আবার ঝাল - ঝোল ও দারুন জমে যায় | স্বাদে বড়োই সুন্দর | দেখেই যেনো গা চকচকে ইলিশ মাছের কথা মনে পরে যায় | ইলিশ মাছ রান্নার কায়দায় রান্না করলে , রান্নাগুলো তো ভীষণই ভালো লাগে | টাটকা , চকচকে খয়রা মাছগুলো দেখেই মনে মনে ভেবেই ফেলেছি , খয়রাগুলো ইলিশ মাছের কোনো একটা মেনুর মতো করেই রেঁধে ফেলবো | আর তাইতো , আজকে আমার মধ্যাহ্ন মেনু '' খয়রামাছ - ভাপা '' |

খয়রা মাছ একটি দারুন সুস্বাদু ছোট মাছ | মাছপ্রিয় সবারই এই মাছটি ভীষণ প্রিয় | মাঝে মধ্যে তো পাতে এসেই পরে , নানা ভাবে , নানা মুখরোচক পদ হয়ে | আর ছোট ছোট প্রতিটি মাছই তো খাদ্যগুণে একেবারে ঠাসা | আছে প্রোটিন , ভিটামিন , নানা খনিজ পদার্থ ,আয়োডিন , পটাশিয়াম , ক্যালসিয়াম , আইরন ইত্যাদি ইত্যাদি |
যেগুলো আমাদের পেশীর শক্তি বাড়াতে , হাড় মজবুত করতে , দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে , ত্বকের উন্নতিশীল গঠনে সাহায্য করতে, মস্তিষ্ক , হৃদয় কে সুস্থ রাখতে বড়োই প্রয়োজনীয় | আর অরুচি মুখে রুচি আনতে তো যে কোনো ছোট মাছের , যে কোনো মেনুই অসাধারণ (Khoyera Mach Bhapa) !!

খয়রা মাছগুলো বাজারের থলি থেকে বের করে নিলাম | কেটেকুটে , ধুয়ে নিয়ে নুন- হলুদ মাখিয়ে রাখলাম | ৩-৪ চা চামচ সাদা সর্ষে জলে ভিজিয়ে দিলাম | আর নিয়ে নিলাম ২-৩ চা চামচ নারকেল গুঁড়ো | ভাপা তে দিলেই .... রান্না হয়ে উঠবে টেস্টে , বেস্ট | অনেক কাজ এগিয়ে রাখলাম | আজ আবার একটা ছুটির দিন | সবাই বাড়িতে | তাই , জল - খাবারের পাট মিটিয়েই , শুরু করবো দুপুরের রান্নাবান্না |
উপকরণ :-

খয়রা মাছ - 300 গ্রাম , মাছগুলো কেটেকুটে ধুয়ে নিয়ে নুন - হলুদ মাখানো
সাদা সর্ষে - ৩-৪ চা চামচ , জলে ভেজানো
নারকেল গুঁড়ো - ২-৩ চামচ
কাঁচালঙ্কা - লাল - সবুজ মিশিয়ে নিজের পছন্দমতো
হলুদগুঁড়ো - ২ চামচ
লাল লংকার গুঁড়ো - ১চামচ
চিনি - ২-১ দানা , রান্নায় স্বাদের চমক আনতে
নুন - প্রয়োজনমতো
সর্ষের তেল - প্রয়োজনমতো
তবে একটা কথা বলেই ফেলি , সর্ষে দিয়ে মাছ ভাপা কিন্তু , একমাত্র সর্ষের তেলেই জমে !!!!! ঠিক তো ???
পদ্ধতি :-
রান্নাঘরে এলাম | শুরু করবো লাঞ্চ - মেনু | মনে হলো , প্রথমে '' খয়রামাছ - ভাপা '' ই রেঁধে ফেলি | তাই মিক্সিতে জল ঝরানো সাদা সর্ষে , নারকেলের গুঁড়ো , ৩টে কাঁচালঙ্কা আর অল্প নুন দিয়ে , মিহি করে বেটে রাখলাম |

ঢাকা সমেত একটা পাত্র নিলাম | ঢাকা খুলে পাত্রের মধ্যে ঢেলে নিলাম , মিক্সিতে বেটে রাখা নারকেল , সর্ষের বাটা মিশ্রণটা | মিশ্রনের মধ্যে একে একে দিয়ে দিলাম , কয়েকদানা চিনি , প্রয়োজনমতো নুন , অল্প গুঁড়ো হলুদ , প্রয়োজনমতো লাল লংকার গুঁড়ো আর খানিকটা সর্ষের তেল , আর অল্প মিক্সি ধোওয়া জল | সমস্ত মিশ্রণ ভালো করে নেড়ে নেড়ে মিশিয়ে নিলাম |

এইবার নুন - হলুদ মাখানো খয়রা মাছগুলো একটা একটা করে মিশ্রনে ডুবিয়ে দিতে লাগলাম | সব মাছগুলোর গায়ে বাটা মিশ্রণটা মাখিয়ে দিতে লাগলাম | সব শেষে মাছ সমেত পাত্রটার মধ্যে কয়েকটা কাঁচালঙ্কা সাজিয়ে দিলাম | পাত্রের ঢাকা বন্ধ করলাম | তবে পাত্রের ঢাকা বন্ধ করার আগে মিশ্রনে সব ঠিক ঠাক আর তাক তাক আছে কিনা , ভালো করে দেখে নিলাম |

এখন গ্যাসে একটা কড়াই বসিয়ে অল্প জল দিলাম | আঁচ একদম কমানো থাকলো | জলের মধ্যে বসিয়ে দিলাম একটা তারজালির স্ট্যান্ড | তার উপর রেখে দিলাম , ঢাকা দেওয়া সর্ষে নারকেল বাটা সমেত খয়রা মাছের বাটিটা | এখন সমস্ত কিছু সমেত কড়াইতে দিলাম একটা ঢাকা | জল ফুটতে শুরু করলো | কিছুক্ষনের মধ্যেই জিভে জল আনা এক মন মাতানো গন্ধে চারিদিক ভরে যেতে লাগলো | আহা আহা !!! অপূর্ব সুন্দর এক লোভনীয় গন্ধ !! আজ খাবার টেবিলে স্বাদের বৃষ্টি হবেই হবে !! খুশিতে মন যেন গেয়ে উঠছে , তাইরে নাইরে না , দেরি , আর তো সয় না !! দেরি , আর তো সয় না !!!
মাঝে মাঝে কড়াইয়ের ঢাকা খুলে অল্প অল্প জল দিয়ে , জলের পরিমানটা ঠিক রাখছিলাম | ফোটা জলের ভাপেই তো তৈরি হচ্ছে আমাদের অতি অতি পছন্দের '' খয়রামাছ - ভাপা '' | 30 - 40 মিনিট মতো ভাপা হতে দিলাম | তারপর গ্যাস বন্ধ করে , কয়েক মিনিট মজতে দিলাম |
সব কিছু একটু ঠান্ডা হয়ে আসতেই ,'' খয়রামাছ - ভাপা '' র বাটি খুলতেই -------- ওহ হো হো হো --- বলতে পারবো না , কি দারুন এক সুগন্ধ রান্নাঘরের চারিদিকে স্রোতের মতো ছড়িয়ে পড়লো | একটু চেখে দেখলাম | সত্যিই বড়োই অপূর্ব ! ভাষায় বোধহয় বোঝানো যায় না | বুঝতে গেলে , অবশ্য অবশ্যই রাঁধতে হবে আর খেতে হবে (Khoyera Mach Bhapa) |
আমাদের আজকের লাঞ্চ - পর্ব কেমন জমেছিলো , তা মনে হয় , আমাকে আর বলে বোঝাতে হবে না | আপনারা সব্বাই ভালো মতোই বুঝে গেছেন , কি ?? ----তাইনা ??-------
সবাই ভালো থাকুন | ভালো খান | প্রতিটি দিন এনজয় করে , আনন্দে থাকুন | আর অবশ্যই খুব খুব সুস্থ থাকুন |
.jpg)







Comments