কচিকচি - সজনেডাঁটা - দিয়ে - রুইমাছের - ঝোল (Sojne Data Diye Macher Jhol)
- Kaveri Nandi

- 3 days ago
- 4 min read

'' বসন্ত জাগ্রত দ্বারে '' ! শীতের শেষ হয়েই এলো | বসন্তকাল টোকা দেওয়া শুরু করে দিয়েছে | আর তার কিছুটা আভাস পাওয়া যাচ্ছে , বাজারে ঝুড়িতে ঝুড়িতে থাকা গুচ্ছ গুচ্ছ ,সাদা সাদা , সুন্দর সুন্দর টাটকা সজনেফুল আর কচি কচি সজনেডাঁটা গুলো দেখেই | দেখে তো মন ভরে যাচ্ছে , সঙ্গে সঙ্গে খাওয়ার লোভটাও খুব খু.......ব বেড়ে যাচ্ছে | সবগুলোই যে দারুন টেস্টি টেস্টি আর স্পেশাল স্বাদে - গন্ধে ভরা | তবে শুধু যে স্বাদে - গন্ধে ভরা , তা নয় কিন্তু | স্পেশাল ঔষুধি গুনেও ভরা |

শীত শেষ হতে না হতেই বসন্তের গুঞ্জন | আর বসন্ত আসা মানেই গ্রীষ্মের কড়া নাড়া শুরু | প্রথমে হাড় কাঁপানো শীত, মাঝে ঋতুশ্রেষ্ঠ বসন্ত আর তারপর গ্রীষ্মের দহন জ্বালা |
শীতের মরশুম যেতে যেতেই , বলতে গেলে গ্রীষ্মের আগমন | আর এই সম্পূর্ণ বিপরীত ধর্মী দুটি ঋতুর আসা যাওয়ার মাঝে র যে সময়টা , যা আমাদের সবার অতি অতিপ্রিয় , সেটি হলো কালশ্রেষ্ঠ ''ঋতুরাজ বসন্ত '' |

আমাদের সবার কাছে বসন্তকাল সবচাইতে সুন্দরকাল !!
তবে, ঋতু পরিবর্তনের এই সময়টা উপভোগের জন্য যেমন সুন্দর , তেমনি নানা রোগ - জ্বালা যন্ত্রণার জন্য ও রয়েছে বেশ ভয় | কিন্তু আমাদের পরম বন্ধু প্রকৃতি তো সব সময়েই আমাদের পাশে | প্রকৃতির ঘরে এই সময়ে খাদ্যকারে এমন সব উপকরণ গোছানো থাকে , যা এই মরশুমের কঠিন কঠিন রোগের , অব্যর্থ মহাঔষুধ | সজনেডাঁটা , সজনেফুল সেই মহাঔষুধেরই এক একটি রূপ | শীতের শেষে , বসন্তের আগমনের সময়ে ইমিউনিটি বাড়াতে , রান্নাঘরে অবশ্যই মাঝ মাঝে রাখতে হবে , সজনেডাঁটা , সজনেফুলের মতো উপকরণগুলো | তাহলেই রোগ - জ্বালা অনেক অনেক দূরে থাকবে | আর আমরা থাকবো , অনেকটা নিশ্চিন্ত |

আজ আমার রান্নাঘরের স্পেশাল সবজি বেশ কচি কচি খানিকটা সজনেডাঁটা | আর রয়েছে কয়েকটুকরো রুই মাছ| সব কিছু এতোই টাটকা যে , মনে হলো কচি কচি সজনেডাঁটা দিয়ে রুই মাছের ঝোল , গরম ভাতের পাতে দারুন জমে উঠবে | সঙ্গে দেবো অল্প আলু আর কয়েকটা বিউলি ডালের বড়ি | বড়িগুলো আমার হাতেই তৈরি |
মাছের টুকরোগুলো ভালো করে ধুয়ে নুন - হলুদ মাখিয়ে নিলাম | এখন থাক | সকালের জলখাবারের পাট চুকিয়ে , কাজগুলো সেরে নিয়েই রান্নাঘরে ঢুকবো |
সব কাজ সারা | আবার রান্নাঘরে চলে এসেছি | এবার লাঞ্চ তৈরির পালা | প্রথমেই রাঁধবো '' কচকচি - সজনেডাঁটা - দিয়ে - রুইমাছের - ঝোল '' (Sojne Data Diye Macher Jhol) ......
উপকরণ :-

রুইমাছের টুকরো - ৫পিস , জলে ধুয়ে নুন- হলুদ মাখিয়ে রাখা
কচিকচি সজনেডাঁটা - গোটা ১৩-১৪ টা , টুকরো টুকরো করে কেটে জলে ভেজানো
নতুন আলু - ২টো মাঝারি সাইজের , খোসা ছাড়িয়ে নিয়ে লম্বালম্বি ৬ টুকরো করে কেটে জলে ভেজানো
টোমেটি - ১টা ছোট সাইজের , লম্বালম্বি ৬ টুকরো করে কেটে জলে ধুয়ে রাখা
বড়ি - ৮- ১০টা
গোটা শুকনোলঙ্কা - ৩-৪টে , একটু করে ফাটানো

গোটা -কাঁচালঙ্কা - ২-৩টে , অল্প চিরে রাখা
পাঁচফোড়ন - ১/২ - ১ চা চামচ
হলুদগুঁড়ো - ২ চা চামচ
জিরেগুঁড়ো - ২ চা চামচ
ধনেগুঁড়ো - ১ চা চামচ
লাল - লংকার গুঁড়ো - ১ - ১.৫ চা চামচ , ঝাল নিজের নিজের পছন্দমতো
নুন - প্রয়োজনমতো
চিনি - রং আর স্বাদ বাড়াতে , ২-১ দানা
সর্ষের তেল - প্রয়োজনমতো
পদ্ধতি :-
রান্নাঘরে ঢুকে গ্যাসে কড়াই বসিয়ে , দিলাম প্রয়োজনমতো তেল | সকালের কাজের ফাঁকে ফাঁকে তরকারি কেটে কুটে রেখেছি | এখন শুধু রান্নার পালা | তেল ভালোমতো গরম হয়ে উঠতেই , আঁচ কমিয়ে , নুন- হলুদ মাখানো রুই মাছের টুকরোগুলো কড়াইতে ছেড়ে দিলাম | আঁচ বাড়িয়ে কমিয়ে কড়া করে ভেজে একটা পাত্রে তুলে রাখলাম | বড়িগুলো ও ওই তেলেই ভেজে নিয়ে তুলে রাখলাম |

এখন কড়াইয়ের ওই তেলের মধ্যেই প্রয়োজনমতো আরো একটু তেল দিয়ে দিলাম | তেল গরম হয়ে উঠলে আঁচ কমিয়ে ফোরণে দিলাম শুকনোলঙ্কা . কাঁচালঙ্কা আর পাঁচ ফোড়ন | হালকা হাতে সব কিছু নেড়ে নিয়ে কড়াইতে ছেড়ে দিলাম , জল ঝরিয়ে কাটা আলুর টুকরোগুলো | আঁচ বাড়িয়ে কমিয়ে আলুর টুকরোগুলো ভাজতে লাগলাম | দিয়ে দিলাম ১ চামচ হলুদগুঁড়ো , প্রয়োজনমতো নুন আর জিভে স্বাদের চমক আর রান্নায় রঙের চমক আনতে দিলাম ১-২ দানা চিনি | আবার আঁচ বাড়িয়ে কমিয়ে শুরু করলাম নাড়াচাড়া |

আলু হালকা ভাজা ভাজা হয়ে এসেছে মনে হতেই , আঁচ কমিয়ে দিয়ে দিলাম কেটে রাখা , ধুয়ে রাখা সজনেডাঁটার টুকরোগুলো | একটু নেড়েচেড়ে নিয়ে , দিয়ে দিলাম ২ চামচ জিরেগুঁড়ো , ১ চামচ ধনেগুঁড়ো , ১ - ১.৫ চামচ লাল লঙ্কারগুঁড়ো আর টমেটোর কাটা টুকরোগুলো | আঁচ বাড়িয়ে কয়েকবার বেশ ভালো করেই সমস্ত নেড়ে চেড়ে নিয়ে , ঝোলের পরিমান আন্দাজ করে , দিয়ে দিলাম প্রয়োজন মতো কুসুম কুসুম গরম জল |

প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ঝোল টগবগ টগবগ আওয়াজে , ফুটতে শুরু করলো | বারকয়েক ভালোমতো ফোটার পরেই , ঝোলের মধ্যে ছেড়ে দিলাম ভেজে রাখা মাছ আর ভেজে রাখা বড়িগুলো | ঝোল ফুটছে !! মাছ , বড়ি আর সজনেডাঁটার , সুন্দর এক মনমাতানো গন্ধে আমার রান্নাঘর এখন মো মো , মো মো করছে | আহা আহা , জিভে জল আনা , এক অপূর্ব সুন্দর গন্ধ !! মাতোয়ারা গন্ধে , আপনা আপনিই জিভ জলে ভরে যাচ্ছে | মন যেনো বলছে , চলো লাঞ্চ টেবিল ....চলো লাঞ্চ টেবিল !!

আঁচ কমিয়ে রান্না
কিছুক্ষন মজতে দিলাম | ঝোলের রং দেখে মনে হলো রান্না , হয়েই এসেছে | অল্প চেখে নিলাম | নাঃ ! সব কিছু তো একদম ঠিকঠাক | সত্যিই '' কচিকচি - সজনেডাঁটা - দিয়ে - রুইমাছের - ঝোল '' এর স্বাদের যেনো কোনো তুলনাই হয় না (Sojne Data Diye Macher Jhol) | সুন্দর , অতীব সুন্দর !! আঁচ বাড়িয়ে ঝোলের পরিমান ঠিক করে নিয়ে গ্যাস বন্ধ করলাম | একটা পাত্রে ঝোল ঢেলে নিয়ে রেখে এলাম লাঞ্চ টেবিলে | দিলাম একটা ঢাকা | আর ঢাকা খুলবো আবার এই লাঞ্চ টেবিলেই |

''কচিকচি - সজনেডাঁটা - দিয়ে - রুইমাছের - ঝোল '' আর গরম গরম ভাত ....দারুন দারুন হলো আমাদের দুপুরের মহাভোজ !! কচি কচি সজনেডাঁটা আর বড়ির স্বাদে -গন্ধে রুইমাছের ঝোল অপূর্ব স্বাদিষ্ট আর লোভনীয় হয়ে উঠেছিলো | স্বাদের আবেশে মন - প্রাণ এক অনাবিল আনন্দে ভরে যাচ্ছিলো | সবাই ভালো খেলাম | বড়োই ভালো খেলাম | তৃপ্তিতে ভরে গেলাম |
ভালো খান | ভালো থাকুন | সুস্থ থাকুন | আনন্দে থাকুন | আর অবশ্যই , শীতকে উপভোগ করুন |
.jpg)







Comments