top of page

মুখরোচক - কাঁকরোল


সকাল সকাল ঘুম ভেঙে গেলো। একটা রাত শেষ হয়ে শুরু হলো আরো এক কর্মব্যস্ত দিনের। আর একটু তাড়াতাড়ি ঘুম ভাঙাতে শুরুটা মনে হচ্ছে ভালোই হলো। অনেক অনেক কাজ আছে। ধীরে সুস্থে অনেক কাজ এগিয়ে নিতে পারবো। অনেক কাজের মধ্যে আমার প্রধান কাজ আর সবচাইতে দায়িত্বপূর্ণ কাজ ,আমার রান্নাঘরের কাজ। সংসারকে সুস্থ রাখার ,ভালো রাখার আর আনন্দে রাখার দায়িত্ব ........আমার তো মনে হয় আমার কাছে এক গুরু দায়িত্ব। যা ঠিকঠাক পালন আমাকে করতেই হবে। আর ভাবলেও বেশ ভালোই লাগে ,সংসারের এতো বড়ো দায়িত্ব আমার।


সকালের চা -এ চুমুক দিয়ে এনার্জি নিয়ে আর জলখাবার খেয়ে ,শরীরে শক্তি জোগাড় করে ,বাজার থেকে আসা থলির দিকে এগিয়ে গেলাম। সবজির থলি থেকে প্রথমেই বার হলো ৬-৭টি সবুজ কাঁকরোল। বাঃ...এই এক দারুন উপকারী সবজি। প্রচুর প্রচুর ঔষধীগুনে একেবারে ভরপুর। আমাদের নিত্য চলার পথে ,কখনো কখনো সুগার ,প্রেসার ইত্যাদির........ মতো ভয়ঙ্কর রোগগুলো আমাদের অগোচরেই আমাদের উপরে ঝাঁপিয়ে পরে।



আমরা খুবই ভয় পেয়ে যাই। আর এই সব রোগের উপশমে কাঁকরোলের ভূমিকা কিন্তু অপরিসীম। মাঝে মধ্যে খাদ্যতালিকায় কাঁকরোল থাকলে ,কঠিন রোগগুলো শরীরে প্রবেশ তো করতে ভয় পাবেই ,আর প্রবেশ করে ফেললেও ধীরে ধীরে পালিয়ে যাবেই ।


কিছু ভালো ভালো কথা ভাবতে ভাবতে মনটাও বেশ ভালো ভালো হয়ে গেলো। ঠিক করে ফেললাম আজ দুপুরে সবাইকে কাঁকরোলের এক মুখরোচক পদ রান্না করে খাওয়াবো। পদটি হলো ''মুখরোচক - কাঁকরোল ''। কাঁকরোলের বীজ ,পোস্ত,সর্ষে ,কাঁচালঙ্কা বেটে নিয়ে ,তাতে নুন ,চিনি মেখে নিয়ে পুর তৈরি করে কাঁকরোলের মধ্যে নিয়ে ভেজে নিলেই তৈরি ''মুখরোচক -কাঁকরোল''। সর্ষে ,পোস্ত আলাদা আলাদা করে জলে ভিজিয়ে দিলাম।


উপকরণ :-


  • কাঁকরোল - ৬-৭টি

  • পোস্ত - ২৫ গ্রামের মতো

  • সর্ষে - ২-৩ চামচ

  • কাঁচালঙ্কা - ৫-৬টি ( ঝাল নিজের নিজের পছন্দ মতো )

  • নুন - প্রয়োজনমতো

  • চিনি - প্রয়োজনমতো ( অবশ্যই লাগবে ,নুন ,ঝাল ,মিষ্টিতে পুর হবে তাক তাক মুখরোচক )

  • সর্ষের তেল - প্রয়োজনমতো


পদ্ধতি :-


কাঁকরোল ভালো করে ধুয়ে নিয়ে প্রত্যেকটি লম্বালম্বি অর্ধেক করে কেটে নিলাম। এবার প্রত্যেকটা অর্ধেক করে কাটা কাঁকরোলের মাঝখান থেকে ,কাঁকরোলের বীজ তুলে নিলাম। কাঁকরোলের সমস্ত বীজ মিক্সিতে নিয়ে মিক্সি একবার ঘুরিয়ে নিয়ে ,বাটা বীজ একটা পাত্রে ঢেলে রাখলাম।


এবার একে একে মিহি করে বেটে নিলাম,পোস্ত , সর্ষে ,আর কাঁচালঙ্কা। হালকা করে বাটা কাঁকরোলের বীজের সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিলাম ,পোস্ত ,সর্ষে ,কাঁচালঙ্কা বাটা ,নুন আর প্রয়োজনমতো চিনি। পুর তৈরি হয়ে গেলো।অবশ্যই পুরের স্বাদ দেখে নিলাম। এখন বীজ তুলে নেওয়া অর্ধেক করে কাটা কাঁকরোল গুলো কড়াইতে নিয়ে জল দিলাম ,দিলাম এক চিমটে নুন। গ্যাসে কড়াই চাপিয়ে ,কাঁকরোল হালকা ভাপিয়ে নিয়ে জল ঝরিয়ে তুলে রাখলাম।


এরপর অর্ধেক করে ভাপানো প্রত্যেকটি কাঁকরোলের মাঝখানে তৈরি পুর ভরে রেখে দিলাম। গ্যাসে কড়াই চাপিয়ে প্রয়োজনমতো তেল




দিলাম। তেল গরম হলেই ,পুরভরা কাঁকরোলের পুরভরা দিকটা কড়াইতে দিয়ে দিলাম। একসঙ্গে ২-৩টে করে কড়াইতে দিয়ে দিলাম। আঁচ বাড়িয়ে কমিয়ে ,পুরভরা দিকটা মুচমুচে করে ভেজে নিয়ে ,অন্য দিকটা উল্টে দিলাম। সেই দিকটাও আঁচ বাড়িয়ে কমিয়ে মুচমুচে করে নিলাম। এইভাবেই সমস্ত পুরভরা অর্ধেক করা কাঁকরোল ভেজে তুলে নিলাম।


খাবার টেবিলে সবাই বসে পড়েছে। সবার পাতে দিলাম গরম গরম ভাত আর ২টো করে ভাজা পুরভরা কাঁকরোল। আমিও বসেছি। কি জানি ,কেমন হয়েছে ,ভাবতে ভাবতে মুচমুচে কাঁকরোল দিয়ে ভাত মুখে দিতেই মনে হলো ,বাঃ খুব সুন্দর লাগছে তো! তখনি শুনতে পেলাম সব্বাই একসঙ্গেই বলছে ,কি বানিয়েছো গো ? অপূর্ব !,অপূর্ব ! আহা - হা ,কি দারুন ! সুন্দর স্বাদে মন ভরে গেলো। ওরা বলেই চলেছে.....আর আমার মন ও আনন্দে ভরেই চলেছে।সবার আনন্দ খুশির জন্য তো আমার শত চেষ্টা।


আপনারাও আনন্দে থাকুন ,অনেক খুশিতে থাকুন ,সুস্থ থাকুন আর অনেক অনেক ভালো।

6 views0 comments

Kommentare


bottom of page