top of page

পোস্ত - দিয়ে - লাউশাক - ভাজা


আজ আমার দুপুরের রান্না শুরু হয়ে গিয়েছে। মাছের ঝোল চাপিয়ে দিয়েছি। হঠাৎ দরজায় কলিং বেলের আওয়াজ। দরজা খুলে দেখি আমার এক বন্ধু আমার জন্য তার বাগানের ,একেবারে টাটকা খানিকটা লাউপাতা পাঠিয়ে দিয়েছে। আহা - হা - হা - কি সবুজ !---কি সবুজ !---,একেবারে কচি কচি পাতাগুলো। যদিও একটু বেলা হয়ে গেছে ,কিন্তু আজই লাউশাক টা রেঁধেই ফেলবো। টাটকা টাটকা খেতেই তো মজা। চাপাবো আর নামাবো।



কচি কচি লাউশাক পোস্ত দিয়ে ভেজে নেবো। গরম ভাতে দারুন ! আর এই কচি কচি শাক খেতে যেমন টেস্টি টেস্টি , রান্না হয় খুবই তাড়াতাড়ি। ভাবটা ভাবতে লাউশাকের পাতাগুলো ছাড়িয়ে নিয়ে কুচিয়েও ফেললাম। কুচানো শাকগুলো জলে ভিজিয়ে দিলাম। এবার ৩০ - ৪০ গ্রাম মতো পোস্ত জলে ভিজিয়ে দিলাম। মাছের ঝোল নামিয়েই ,পোস্ত দিয়ে লাউশাক চাপিয়ে দেবো।


লাউশাক -----বড়োই উপকারী। লাউগাছের ডাটা ,পাতা ,লাউ --সবই উপকারী। শরীরে তাপের প্রদাহ কমাতে ,পেট ভালো রাখতে ,ইনসুলিনের মাত্রা ঠিক রাখতে , আরো আরো নানা উপকারে লাউ ,লাউশাক খুবই কার্যকরী। তাছাড়া লাউশাক স্বাদে কিন্তু অসাধারণ ! লাউশাকের যে কোনো পদই ভাতের পাতে খুবই ভালো লাগে। লাউ শাকের একটা খুব সুন্দর স্বাদ আর গন্ধ আছে, আর এই স্পেশাল স্বাদের জন্য লাউশাক অনেকেরই ভীষণ ভীষণ প্রিয়।


এদিকে মাছের ঝোল নামিয়ে ফেলেছি। এবার পোস্ত বাটা দিয়ে লাউ শাক ভেজে ফেলি -----


উপকরণ :-


  • লাউশাক - ৫০০ গ্রামের মতো ( ডাটা পাতা সমেত ,ডাটা বাদ দিয়ে পাতা কুচিয়ে জলে ভেজানো )

  • পোস্ত - ৩০ - ৪০ গ্রাম ( জলে ভেজানো )

  • পাঁচফোড়ন - ১ চামচ

  • শুকনো লাল লঙ্কা - ২ টি ,একটু করে ফাটানো

  • কাঁচালঙ্কা - ৬টি ,২টি ফোরণে ,৪টি পোস্তর সঙ্গে বাটা

  • নুন - প্রয়োজনমতো

  • চিনি - প্রয়োজনমতো

  • সর্ষের তেল - প্রয়োজনমতো ( সর্ষের তেলেই পোস্ত দিয়ে রান্না বেশি ভালো লাগে )


পদ্ধতি :-


গ্যাসে কড়াই চাপিয়ে প্রয়োজনমতো তেল দিলাম। তেল গরম হতে ,ফোরণে দিলাম পাঁচফোড়ন ,২টি ফাটানো শুকনোলঙ্কা আর ২টি ফাটানো কাঁচালঙ্কা। দিলাম জল ঝরিয়ে নিয়ে কুচানো লাউ পাতাগুলো। বেশি আঁচে একটু নেড়েচেড়ে নিয়ে আঁচ কমিয়ে একটা ঢাকা দিয়ে রান্না হতে দিলাম।

ওঃ ! -----পাঁচফোড়ন ,শুকনোলঙ্কার সঙ্গে লাউ পাতার কি সুন্দর ভোগ ভোগ গন্ধ বেরিয়েছে।


এবার মিক্সিতে জল ঝরানো পোস্ত আর ৪টি কাঁচালঙ্কা নিয়ে মিহি করে বেটে নিলাম। কিছুক্ষন পরে ঢাকা খুলে দেখি ,লাউ শাকের পাতা থেকে জল বেরিয়েই শাক সেদ্ব হয়ে গেছে। দিলাম নুন আর মিষ্টি। আঁচ বাড়িয়ে লাউ শাকের জল শুকিয়ে নিলাম। কড়াইতে দিলাম বাটা পোস্ত। নরম হয়ে যাওয়া লাউশাক আর পোস্ত ভালো করে নেড়েচেড়ে মিশিয়ে দিয়ে ,ভাজা ভাজা করে নিলাম।


ভাজা ভাজা হয়ে এলে রান্নার স্বাদ চেখে দেখলাম। বাঃ ! দারুন লাগছে !


গরম ভাতে ,প্রথম পাতের শুরুটা খুব খুবই ভালো হলো । কেমন আশ্চর্য না ? আজ দুপুরের মেনুতে পোস্ত দিয়ে লাউ শাকের মেনুটা হঠাৎ ই হয়ে গেলো আর দারুন জমে ও গেলো। আমরা সব্বাই খুব আনন্দ করে ,দারুন উপভোগ করে দুপুরের খাওয়া শেষ করলাম। আমরা আজ বড়োই খুশি --------


খুশি খুশি থাকুন ,খুব ভালো থাকুন ,অনেক অনেক সুস্থ থাকুন।




15 views0 comments

Commentaires


bottom of page