top of page

পটল - আলু - দিয়ে - মাছের - ঝোল



আজ ভীষণ ভীষণ গরম ---- অসহ্য গরম !!!


শুধুই গুমোট গুমোট ভাব | শরীর কেমন যেন ক্লান্ত ক্লান্ত | কিচ্ছু ভালো লাগছে না | বাড়ির সবাইও ভীষণ ক্লান্ত | বারবার লেবু দিয়ে জল আর নূন চিনির জল.......শুধুই এটাই ভালো লাগছে | কিন্তু খেতে তো হবেই |


বাজার এলো | ভাবছি দুপুরের মেনুতে এমন কিছু রাঁধবো, যা মোটামুটি সবার একটু ভালো লাগবে | বাজারের থলিতে কচি কচি পটল, আলু, মাছ, ইত্যাদি........আর গন্ধরাজ লেবু | ভেবে নিলাম আলু পটল দিয়ে মাছের হালকা করে ঝোল রাঁধবো |


গন্ধরাজ লেবু দিয়ে মনে হয় ভালোই লাগবে | আজকে দুপুরে একেবারে ঠিকঠাক মেনু | যাই এবার রান্নাঘরে ঢুকি........


উপকরণ :-

  • রুই মাছ - ৬,৭ পিস্ (১ কিলো মাছ থেকে নেওয়া গোল গোল করে কাটা)

  • পটল - ৫০০ গ্রাম (অল্প অল্প খোসা ছাড়িয়ে প্রত্যেকটি লম্বা লম্বি অর্ধেক করে কাটা)

  • আলু - ৪,৫টি (খোসা ছাড়িয়ে একটু মোটা মোটা লম্বা লম্বা করে কাটা)

  • কাঁচা লঙ্কা - ৪,৫টি (চেরা)

  • পাঁচ ফোড়ন - ১/২ চামচ

  • শুকনো লঙ্কা - গোটা (২টি)

  • হলুদ - প্রয়োজন মতো

  • জিরে গুঁড়ো - ৩,৪ চামচ

  • লঙ্কা গুঁড়ো - ১,২ চামচ

  • সর্ষের তেল - প্রয়োজন মতো

  • নূন - প্রয়োজন মতো

  • চিনি - কয়েকদানা (স্বাদ জন্য)

পদ্ধতি :-


মাছের পিস্ গুলো জলে ভালো করে ধুয়ে, জল ঝরিয়ে, নূন আর হলুদ মাখিয়ে রাখলাম | গ্যাসে কড়াই গরম করে মাছ ভাজার মতো তেল দিলাম | মাছ খুব ভালো করে ভেজে তুলে রাখলাম | ওই তেলেই প্রয়োজন মতো অল্প একটু তেল দিয়ে, জলে ধোয়া পটল গুলো মাত্র এক চিমটে নূন দিয়ে ছেড়ে দিলাম | হালকা হালকা করে ভেজে তুলে রাখলাম |


এবার কড়াই পরিষ্কার করে তেল দিলাম | দিলাম পাঁচ ফোড়ন, ফাটানো শুকনো লঙ্কা ও জলে ধোয়া আলু গুলো | আলু একটু রাঙা করে ভাজা হলে, দিলাম হলুদ, নূন আর কয়েকদানা চিনি | বেশ কয়েকবার নেড়ে, দিলাম জিরে গুঁড়ো, লঙ্কা গুঁড়ো |


দু একবার নাড়াচাড়া করে ঝোলের পরিমাণ কতখানি হবে, এই ভেবে কড়াইতে জল দিলাম (জিরে গুঁড়ো, লঙ্কা গুঁড়ো দেওয়ার পর কিন্তু অল্প একটু কষা হবে) |

ঝোল ফুটে উঠলে, আঁচ কমিয়ে, হালকা ঢাকা দিয়ে কিছুক্ষন হতে দিলাম | আলু একটু নরম নরম হয়ে এলে আঁচ বাড়িয়ে দিলাম | দিলাম ভাজা মাছ, ভাজা পটল গুলো | এখন ঝোল দু একবার ফোটার পর মাঝারি আঁচে কিছুক্ষন হতে দিলাম | ঝোলের পরিমাণ মোটামুটি ঠিক মনে হলে, আঁচ বাড়িয়ে চেরা কাঁচা লঙ্কা গুলো দিয়ে দিলাম | ঝোল কিছুক্ষন টগবগ করে ফুটতে লাগলো |


এবার দেখলাম ঝোলের স্বাদ | স্বাদ সব ঠিক আছে দেখে গ্যাস বন্ধ করে, রান্নাটা একটা ঢাকা দিয়ে রেখে দিলাম |


এতো অসহ্য গরম, খাবার ইচ্ছে তো ছিলই না, কিন্তু -------- গন্ধরাজ লেবু দিয়ে গরম গরম ভাত আর আলু-পটল-মাছের ঝোল.....এতো যে ভালো লাগবে, তা কিন্তু আমরা কেউ বুঝতেই পারিনি |


অপূর্ব !!! অপূর্ব !!!


গরমে কিন্তু আমাদের সবাইকেই শরীরের অবস্থা বুঝে খাওয়াদাওয়া করা উচিত | শরীর ভালো রাখতেই হবে | তবেই মন থাকবে সুস্থ আর আনন্দে ভরা |


50 views0 comments

Comments


bottom of page